বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- সাবেক শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আফজালুন নেছা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাবেক ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, জামালপুর) মিশু বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাবেক র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ) জুয়েল চাকমা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা আফজালুন নেছা ২০১৭ সালে ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নিলেও পরে মৌলিক প্রশিক্ষণে যোগ দেননি। ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি। পরে ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সঙ্গে মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হলেও তিনি যোগদান করেননি এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। বিভাগীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আয়রনম্যান ৭০.৩ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তিনি অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় একাধিক নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া র্যাব-১৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছুটি শেষে কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব (যেখানে প্রযোজ্য), অভিযোগের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ পর্যালোচনার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।